বাড়ি গিয়ে ভোটার করার নিয়ম আর থাকছে না | অনলাইনে ভোটার নিবন্ধন

এখন থেকে সারা দেশে সামগ্রিক ভাবে বাড়ি গিয়ে ভোটার করা ও জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধনের সুযোগ থাকছেনা। একজন নাগরিককে শুধুমাত্র অনলাইনেই জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার নিবন্ধনের আবেদন করতে হবে। সর্বশেষ ২০১৯ সালে সারা দেশে একযোগে জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম চলেছিল। এর পর থেকে আর বাড়ি গিয়ে ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়নি। অবশ্য, নির্বাচন কমিশন…

এখন থেকে সারা দেশে সামগ্রিক ভাবে বাড়ি গিয়ে ভোটার করা ও জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধনের সুযোগ থাকছেনা। একজন নাগরিককে শুধুমাত্র অনলাইনেই জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার নিবন্ধনের আবেদন করতে হবে।

সর্বশেষ ২০১৯ সালে সারা দেশে একযোগে জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম চলেছিল। এর পর থেকে আর বাড়ি গিয়ে ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়নি। অবশ্য, নির্বাচন কমিশন অনলাইনেই জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার নিবন্ধন করার সুযোগ রেখেছিল তার আগে থেকেই।

অনলাইনে নতুন ভোটার আইডি কার্ড করার আবেদন করুন

ভোটার তালিকা নিবন্ধন আইন অনুযায়ী বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ভবিষ্যতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার করার নিয়ম না রাখার জন্য নির্বাচন কমিশন ভাবছে।

অনলাইনে ভোটার নিবন্ধন

আইন অনুযায়ী প্রতি বছর ভোটার হালনাগাদ করার কথা থাকলেও প্রতি বছর তা করা হয়না। আবার, ২০২০ সাল থেকে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে, এখন পর্যন্ত কোন হালনাগাদ করা হয়নি।

তবে বছর জুড়েই অনলাইনে চালু আছে ভোটার কার্যক্রম। অনলাইনে ঘরে বসে জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার নিবন্ধনের আবেদন করে ১৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যেই জাতীয় পরিচয়পত্র হাতে পাওয়া যায়।

অনলাইন জাতীয় পরিচয়পত্র ডাউনলোড

নির্বাচন কমিশন অনলাইনে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার নিবন্ধনের এই পদ্ধতি স্থায়ীভাবে কার্যকর রাখার পরিকল্পনা করছে।

বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কিছু অসুবিধা

১ জানুয়ারি বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ছিল। বর্তমান কে এম নুরুল হুদার কমিশন ১ মার্চ ভোটার দিবস ঘোষণা করেছে। তাই জানুয়ারির পরিবর্তে মার্চ থেকে এখন ভোটার শুরু করেন।

বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কিছু অসুবিধা রয়েছে,

  • বেশির ভাগ বছরে নির্বাচনসহ নানা কারণে ভোটার তালিকা হালনাগাদ হয়েছে বছরের সুবিধাজনক সময়ে। হালনাগাদ নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগও আছে।
  • ঘরে ঘরে না গিয়েই জনপ্রতিনিধিদের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী তালিকা পূর্ণ করার ঘটনাও রয়েছে। অনেক ভূতুড়ে ভোটারও পাওয়া গেছে অতীতে ভোটার তালিকায়।
  • এই ইস্যুতে ২০০৬ সালের ২২ জানুয়ারি নির্বাচন বাতিল হয়। তবে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন করার পরও বাড়ি বাড়ি গিয়ে সঠিকভাবে হালনাগাদ করতে পারেনি নির্বাচন কমিশন।
  • ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার ক্ষেত্রে বিশাল কর্মযজ্ঞ লাগে। দেশের সব স্কুলের শিক্ষকদের এ কাজে যুক্ত করা হয়। শহরকেন্দ্রিক বাড়ি বাড়ি গিয়ে নানা হয়রানির শিকার হন ভোটার নিবন্ধনকারীরা।
  • জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যে ভুল
  • পাশাপাশি কোভিডের আতঙ্কসহ নানা কারণে এখন বাড়ি যাওয়ার পরিস্থিতি নেই।

অনলাইনে ভোটার নিবন্ধন

তথ্য প্রযুক্তি আর অনলাইনের যুগে, সামনে বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা করার নিয়ম আর থাকবেনা বললেলই চলে।

নতুন ভোটারদের অনলাইনে আবেদন সাপেক্ষে ভোটার করা হচ্ছে। ভাবষ্যতে এ প্রক্রিয়ায় চলবে ভোটার কার্যক্রম।

এতে খরচ ও সময় দুটিই সাশ্রয় হবে। ২০০৪ সালের ১ জানুয়ারি যাদের জন্ম, তাদের তথ্য সংগ্রহ চলার মধ্যে ২০০৬ সালের ১ জানুয়ারি যাদের জন্ম, তাদের ভোটার করার উদ্যোগ নিচ্ছে ইসি।

অনলাইনে ভোটার নিবন্ধনের সুবিধাসমূহ

  • নিজের আবেদন নিজেই করে বলে ভুল ভ্রান্তি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
  • কোন প্রকার ডকুমেন্ট অনলাইনে আপলোড করতে হয়না
  • ঝামেলা ও ভোগান্তি অনেক কম।
  • বায়োমেট্রিক তথ্য আপলোডের পরই অনলাইন হয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র ডাউনলোড করা যায়

সুবিধা থাকলেও এর অসুবিধাও রয়েছে। ইন্টারনেট সুবিধা বঞ্চিত জনগন, প্রান্তিক ও নিম্ম আয়ের মানুষেরা যারা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেনা তাদের জন্য কি হবে এটা অবশ্যই ভাবতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।

সকল আপডেট তথ্যের জন্য Facebook Page

Similar Posts

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।