অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের নিয়ম ২০২০-২০২১ | ই রিটার্ন

করদাতাদের জন্য সুখবর, এবছর থেকেই ঘরে বসেই অনলাইনে আয়কর ই রিটার্ন দাখিল (২০১৯-২০ অর্থবছর) করতে পারবেন এবং ট্যাক্স সার্টিফিকেটও সাথে সাথে ডাউনলোড করতে পারবেন। কিভাবে কর সার্কেল অফিসে না গিয়ে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দিবেন তা নিতে বিস্তারিত লেখা হয়েছে।

যাদের টিআইএন- টিন (TIN) সার্টিফিকেট রয়েছে, তাদের বাধ্যতামূলকভাবে প্রতি বছর আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হয়। রিটার্ন জমা না দিলে, আইন অনুযায়ী শাস্তি ও জরিমানার বিধান রয়েছে।

করযোগ্য আয় না থাকলেও প্রতি বছর আয়কর রিটার্ন জমা দেয়াকে অনেকেই একটি বাড়তি ঝামেলা মনে করেন। এর কারণ, কর সার্কেলে হয়রানি ও ঝক্কি ঝামেলা পোহাতে হয়। তাই, ই রিটার্ন অবশ্যই করদাতাদের জন্য একটি স্বস্তি।

অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের নিয়ম

অনলাইনে ই রিটার্ন জমা দেয়ার জন্য, আপনার TIN ও নিজ নামে রেজিস্ট্রেশন করা মোবাইল নম্বর দিয়ে ই রিটার্ন সিস্টেমে সাইন আপ বা রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।

এক নজরে সম্পূর্ণ লেখা

ই রিটার্ন সিস্টেমে রেজিস্ট্রেশন করার নিয়ম

ই রিটার্ন দাখিল করতে আপনাকে সিস্টেমে টিআইএন ও মোবাইল নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন।

ধাপ ১ঃ রেজিস্ট্রেশনের জন্য প্রথমে এই লিংকে ভিজিট করুন- E-Return Registration

ই রিটার্ন রেজিস্ট্রেশন

প্রথম বক্সে আপনার টিআইন (TIN) নম্বরটি লিখুন। তারপর আপনার নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র দ্বারা বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশন করা আছে এমন মোবাইল নম্বরটি লিখুন (প্রথম শুন্য বাদে)। এরপর ক্যাপচা কোডটি সঠিকভাবে লিখুন এবং সবশেষে Verify বাটনে ক্লিক করুন।

ধাপ ২ঃ এই ধাপে মোবাইল ভেরিফিকেশন করতে হবে। Verify বাটনে ক্লিক করার পর আপনার মোবাইলে একটি ৬ সংখ্যার OTP Code পাঠানো হবে।

এখানে ৬ ডিজিটের ওটিপি কোডটি লিখুন এবং আপনি ভবিষ্যতে ই রিটার্ন সিস্টেমে লগ ইন করার জন্য একটি পাসওয়ার্ড সেট করুন।

পাসওয়ার্ডটি অবশ্যই ইংরেজিতে Capital Letter + Small Letter + Number + Mark ব্যবহার করে সেট করবেন। যেমন হতে পারে- Dhaka123#

এরপর Submit বাটনে ক্লিক করে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করুন। আশা করি আপনি সফলভাবে ই রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন করেছেন। এবার সিস্টেমে সাইন ইন করে ই রিটার্ন সাবমিট করতে পারবেন।

অনলাইন রিটার্ন সাবমিট করার নিয়ম ২০২০-২০২১

অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের জন্য নিচে দেখানো ধাপগুলো ভালভাবে বুঝে শুনে ও সঠিক তথ্য দিয়ে সম্পন্ন করুন।

রিটার্ন দাখিলের পূর্বে অবশ্যই যা করবেন

  • আয়কর রিটার্ন দাখিলের পূর্বে আয়কর নির্দেশিকা ২০২১-২০২২ পড়ে নিন।
  • গতবছর রিটার্ন দাখিলে করলে তার কপি সঙ্গে রাখুন।
  • আপনার আয় বিবরণী/ বেতন বিবরণী/ লাভ-লোকসান বিবরণী/ ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ব্যয়ের হিসাব সঙ্গে রাখুন।
  • কর রেয়াত পাওয়ার জন্য আপনার বিনিয়োগ তথ্য দিন।
  • কোন কিছু সম্পর্কে অবগত না থাকলে অভিজ্ঞ ব্যক্তির কাছ থেকে সহযোগিতা নিন।

ধাপ ১ঃ ই রিটার্ন সিস্টেমে সাইন ইন

এনবিআর ই রিটার্ন সিস্টেমে (e-Return System) ভিজিট করুন এবং ২ নং অপশন e Return এ ক্লিক করুন।

অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের নিয়ম

ডান পাশ থেকে, আপনার TIN নম্বর, পাসওয়ার্ড ও ক্যাপচা লিখে Sign in বাটনে ক্লিক করে সাইন ইন করুন।

সাইন ই করার পর নিচের মত একটি ড্যাশবোর্ড পাবেন। এখানে বাম পাশ থেকে Return Submission অপশনে ক্লিক করুন।

অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের নিয়ম

ধাপ ২ঃ কর নির্ধারন তথ্য- Tax Assessment Information

ই রিটার্ন ফরমের শুরুতে আপনাকে Tax Assessment Information বা আয়কর নির্ধারণ সংক্রান্ত তথ্য অর্থাৎ আয়ের সন ও  উৎস সংক্রান্ত তথ্য দিতে হবে।

অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল

রিটার্ন ফরমের শুরুতে আমাদের Assessment Information এবং Heads of Income সম্পর্কিত দিতে হবে। এখানে প্রত্যেকটি অপশন বুঝিয়ে দেয়ার চষ্টা করব।

Return Scheme : Universal Self

এটি হচ্ছে, আয়কর নির্ধারণের একটি পদ্ধতি- যাকে বাংলায় সার্বজনীন স্বনির্ধারণী পদ্ধতি বলা হয়।

Assessment Year: 2021-2022

যে অর্থবছরে আমরা আয়কর রিটার্ন দাখিল করব. এটি সেই অর্থবছর। আমরা সাধারণত পূর্ববর্তী অর্থবছরের ( ১ জুলাই ২০২০ থেকে ৩০ জুন ২০২১১) রিটার্ন ৩০ নভেম্বর ২০২১ এর মধ্যে দাখিল করে থাকি। তাই Assessment Year ২০২১-২০২২ হবে।

Income Year: 2020-2021

যেহেতু গত বছরের আয়কর রিটার্ণ সাবমিট করা হবে। এখানে আয়ের বছর হবে – ২০২০-২০২১।

Any Taxable Income in the above mentioned income year

যদি ২০২০-২১ আয় বছরে আপনি করযোগ্য কোন আয় করে থাকেন, Yes দিবেন।

এখানে অনেকে মনে করতে পারেন, যে আমার আয় ৩ লক্ষ টাকার কম, তাই আমার করযোগ্য আয় নেই। এটি ভুল।

মনে রাখবেন, আপনি যত অল্পই আয় করুন না কেন আপনার আয় করযোগ্য হতে পারে। তবে করযোগ্য আয় যদি বছরে পুরুষের ৩ লক্ষ টাকা ও মহিলার ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার কম হয়, আয়কর প্রযোজ্য হবেনা।

তাই, আপনার আয় থাকলেই আপনি করযোগ্য আয় (Taxable Income) অপশনে Yes দিবেন।

Any Income which is fully exempted from tax

বাংলাদেশ সরকার কিছু আয়কে সম্পুর্ণভাবে করমুক্ত করেছে। এসব খাত থেকে আপনি যতই আয় করুন না কেন আপনাকে কোন আয়কর দিতে হবেনা।

যেমন, ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, সফটওয়ার ও আইটি ব্যবসাসহ আরো অনেক খাত। যদি আপনার এই ধরণের খাত থেকে আয় করে থাকেন, এই অপশনে Yes দিন।

Resident Status: Resident

বাংলাদেশ বাসিন্দা হিসেবে আপনি অবশ্যই Resident অপশনটি সিলেক্ট করবেন।

Heads of Income

এটি হচ্ছে আয়ের খাত বা উৎসসমূহ। এখান থেকে শুধুমাত্র আপনার উৎসমূহ বাছাই করবেন।

  • Salaries
  • Interest on Securities
  • Income from House Property
  • Agricultural Income
  • Income from Business and Profession
  • Capital Gain
  • Income from Other Source

Any Income from the Following Sources

তাছাড়াও নিচের কোন উৎস থেকে আপনার আয় থাকলে তাও বাছাই করুন। উল্লেখ্য, যদি আপনি রেমিটেন্স আয় করে থাকেন অবশ্যই (Income Earned Outside Bangladesh) এই অপশনটি সিলেক্ট করবেন।

  • As a Partner of Firm
  • As a Member of an AoP
  • Income Earned Outside Bangladesh
  • Income Earned by the Spouse or Minor Children

এরপর Save and Continue বাটনে ক্লিক করে পরের ধাপে যান।

ধাপ ৩ঃ আয়ের তথ্য – Income Information

এ ধাপে আপনি যে যে উৎস থেকে আয় করেছেন তার তথ্য দিতে হবে। নিচের ছবিতে খেয়াল করুন।

ই রিটার্ন দাখিলের নিয়ম

এখানে প্রত্যেকটি আইটেম সম্পর্কে বিস্তারিত বলছি।

Additional Information

Location of Main Source of Income- প্রধান আয়ের উৎসের এলাকা এখানে আপনি যে এলাকায় আয় করছেন বা বসবাস করছেন তা দিবেন।

  • City Corporation Area- যদি সিটি কর্পোরেশন এলাকায় থাকেন
  • Any Other Area- গ্রাম বা ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় থাকলে

War wounded Gazetted Freedom Fighter- যদি আপনি যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা হন টিক দিন।

Person with Disability- যদি আপনি যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা হন টিক দিন।

Claim Benefit as a Parent/ Legal Guardian of a Person with Disability- যদি আপনি কোন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বা শিশুর পিতা-মাতা বা আইনত অভিভাবক হয়ে থাকেন এখানে টিক দিন।

Claim Tax Rebate for Investment

বাংলাদেশ সরকার কিছু বিশেষ ধরনের বিনিয়োগের উপর কর ছাড় (Tax Rebate) দিয়ে থাকে। যদি আপনি এমন কোন খাতে বিনিয়োগ করে থাকেন, কর ছাড়ের জন্য দাবী করতে এই অপশনে টিক দিবেন।

Shareholder Director of a Company

যদি কোন প্রাইভেট বা পাবলিক লিঃ কোম্পানীর শেয়ারহোল্ডার পরিচালক হয়ে থাকেন।

IT10B Requirement

আয়কর রিটার্ন দাখিলের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হচ্ছে IT10B ফরম। যদি কোন ব্যক্তি করদাতার মোট সম্পদের পরিমাণ ৪০ লক্ষ টাকা বা তার বেশি হয়ে থাকে, আবশ্যিকভাবে এই ফরমে আয়-ব্যয়ের হিসাব দেখাতে হবে।

যদি মোট সম্পদের পরিমাণ ৪০ লক্ষ টাকার কম হয়, এটি পূরণ করা বাধ্যতামূলক নয়। তবে আপনার রিটার্ণ আরো সচ্ছ করতে চাইলে আপনি এটি পূরণ করতে পারেন।

Gross Wealth over 40,00,000? Own a Motor Car? Have House Property in any City Corporation? এগুলো থাকলে Yes এবং না থাকলে No দিন।

IT10B is not Mandatory. Still want to Submit?-

IT10B হচ্ছে ব্যয় বিবরণী দেখানোর একটি ফর্ম। যদি আপনার মোট সম্পদের পরিমাণ ৪০ লক্ষ টাকার কম হয়ে থাকে, এই বিবরণী দাখিল করা বাধ্যতামূলক নয়।

তারপরও আপনি যদি এটি সাবমিট করতে চান, Yes দিন এবং Save & Continue বাটনে ক্লিক করে পরের ধাপে যান।

ধাপ ৪: আয়ের বিস্তারিত তথ্য – Income Details

এ ধাপে আপনার বিভিন্ন আয়ের উৎসসমূহ সিলেক্ট করবেন। যদি আপনার আয়ের উৎস একমাত্র বেতন হয়ে থাকে, ‍Salary বাছাই করবেন। বেতন ছাড়া অন্যান্য উৎস থেকে আয় করে থাকলে (Income from Other Sources) সিলেক্ট করে Dropdown অপশন থেকে উৎসটি সিলেক্ট করুন। নিচের ছবিতে আয়ের অন্যান্য উৎস দেখানো হয়েছে।

অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল

Tax Exempted Income – কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত আয়/ করমুক্ত আয়

ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, সফটওয়ার ও আইটি ব্যবসা এবং এ ধরনের বিভিন্ন উৎস থেকে আয় সম্পূর্ণ করমুক্ত। তাই এসব খাত থেকে আয় থাকলে তা এখানে সিলেক্ট করতে হবে। করমুক্ত আয় (Tax Exempted Income) এর অপশনটি নিচের ছবিতে দেখানো হলো।

করমুক্ত আয়

Income Summery

তারপর Income Summery তে আপনার বাৎসরিক আয়ের পরিমাণ ও ব্যবসায়িক খরচ দেখাতে হবে।

ধরুন, আপনি ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করে আয় করেন ২ লক্ষ টাকা (বাৎসরিক)। কনটেন্ট তৈরিতে আপনার ব্যয় ৫০ হাজার টাকা, ডিজাইনারের বেতন ১৫ হাজার টাকা, ইন্টারনেট ও বিদ্যুৎ বিল ১৫০০ টাকা ।

এক্ষেত্রে আপনার Gross Profit বা মোট আয় হবে ২ লক্ষ টাকা। General, Administrative and Other Expense বাবদ ( ৫০,০০০+১৫০০০+১৫০০)= ৬৬,৫০০ টাকা বাদ দিয়ে নীট আয় (Net Income) হবে ১,৩৩,৫০০ টাকা।

ই রিটার্ন দাখিল

Income Summery পূরণ করে Save and Continue বাটনে ক্লিক করে পরের ধাপে যান।

ধাপ ৫: ব্যয়ের তথ্য – Expenditure

এ ধাপে ব্যয়ের তথ্য দিতে হবে। যদি আপনার মোট সম্পদ ৪০ লক্ষ টাকা বা তার বেশি হয়, অবশ্যই ব্যয়ের তথ্য বিবরণী আকারে পূরণ করতে হবে। এজন্য IT10B ফরম টি অবশ্যই পূরণ করতে হবে। ফরমটি পূরণের জন্য Yes দিন।

যদি আপনার মোট সম্পদ ৪০ লক্ষ টাকার কম হয়ে থাকে, আপনাকে এটি পূরণ না করলেও চলবে। এক্ষেত্রে আপনার বাৎসরিক পারিবারিক ও ব্যক্তিগত খরচসমূহের মোট পরিমাণ উল্লেখ করতে হবে।

ই রিটার্ন দাখিল

ব্যয়ের তথ্য পুরণ করে, Save and Continue বাটনে ক্লিক করে পরের ধাপে যান।

ধাপ ৬: আয়কর ও পরিশোধ – Tax and Payment

যদি আপনি কোন উৎস কর এবং অগ্রিম কর (Source Tax and Advance Tax) পরিশোধ করে থাকেন তা এখানে দেখাতে পারবেন। উৎস কর এবং অগ্রিম কর আপনার মোট পরিশোধ্য কর (Tax Payable) থেকে স্বয়ংক্রীভাবে বাদ যাবে।

আয়কর রিটার্ন দাখিল

আয়কর পরিশোধ

যদি আপনার আয়ের উপর কোন কর পরিশোধ করতে না হয়, Payable Amount শুন্য আসবে। যাদের রিটার্নে Payable Tax Amount শুন্য বা Zero হয়, তাদের রিটার্নকে জিরো রিটার্ণ (Zero Return) বা শুন্য রিটার্ন বলে।

এ পর্যায়ে আপনার আয়কর রিটার্ন পূরণ সমাপ্ত হয়েছে। এখন আপনি চাইলে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে পারেন অথবা রিটার্ন ফরমটির প্রিন্ট কপি নিয়ে সরাসরি আয়কর সার্কেলে জমা দিতে পারবেন।

অফলাইন রিটার্ন (Offline Return)

বামপাশের Yellow কালারের বাটন-Proceed to offline (Paper) Return ক্লিক করে আয়কর রিটার্ন ফরমটির প্রিন্ট কপি নিন। তারপর ফরমটি আপনার সংশ্লিষ্ঠ আয়কর সার্কেল অফিসে জমা দিন। এরজন্য কোন ফি পরিশোধ করতে হবেনা। Proceed to Online Return ক্লিক করে অনলাইনে রিটার্ন সাবমিট করতে পারবেন।

অনলাইন রিটার্ন (Online Return)

ডানপাশের Blue কালারের বাটন-  Proceed to Online Return ক্লিক করে অনলাইনে রিটার্ন সাবমিট করতে পারবেন।

অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল

উপরের ছবির মত রিটার্ন ফরমের একটি প্রিভিউ দেখতে পারবেন। ফরমের একদম নিচে আপনার সম্মতি প্রদানের জন্য Verification and Signature অপশনে Yes দিতে হবে।

ই রিটার্ন দাখিল

লাল বক্সে চিহ্নিত টিক বক্সে টিক দিন এবং নিচের Submit Return বাটনে ক্লিক করুন

সতর্কতা: এখানে চুড়ান্তভাবে আপনার কাছ থেকে রিটার্ন দাখিলের জন্য অনুমতি চাওয়া হচ্ছে। মনে রাখবেন, Yes বাটনে ক্লিক দেয়ার পর আপনার রিটার্ন জমা হয়ে যাবে। এর পর আপনি আর কোন পরিবর্তন করতে পারবেন না। তাই যদি, আপনার কোন সন্দেহ থাকে যে তথ্য গরমিল আছে কিনা, No বাটন ক্লিক করে পূনরায় ফরমটি চেক করে নিতে পারেন।

Yes বাটনে ক্লিক করার আগে অবশ্যই আপনি নিশ্চিত হবেন যে আপনার রিটার্ন ফরমের সকল তথ্য সঠিক আছে। সবকিছু ঠিক থাকলেই তবে Yes বাটনে ক্লিক করে রিটার্ন দাখিল করবেন।

ধাপ ৭: Download Acknowledgement Receipt

সফলভাবে আয়কর রিটার্ন জমা দেয়া হলে, নিচের ছবির মত একটি মেসেজ দেখতে পাবেন। এখানে রিটার্ন সাবমিশনের একটি Reference ID এবং Acknowledgement Receipt ডাউনলোড করার অপশন দেখতে পাবেন।

অনলাইনে ই রিটার্ন দাখিল
আশা করি, আপনিও সফলভাবে অনলাইনে আপনার আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। আয়কর রিটার্ন সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর পেতে নিচের প্রশ্ন-উত্তরগুলো পড়ে নিতে পারেন।

ই রিটার্ন বিষয়ক বিভিন্ন প্রশ্ন ও উত্তর

মোবাইলের মাধ্যমে ই-রিটার্ন জমা দেয়া যাবে?

না, ই-রিটার্নকে সহজ ও user-friendly করার জন্য অনেক features দেয়া আছে, যার অনেকগুলো মোবাইল ডিভাইসে পাওয়া যাবে না। তাই ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ কম্পিউটারে ই-রিটার্ন করুন।

ই রিটার্ন সিস্টেমে রেজিস্ট্রেশন করতে কি লাগে?

ই-রিটার্ন সিস্টেমে রেজিস্ট্রেশন করতে টিআইএন এবং আপনার নিজের নামে নিবন্ধিত  মোবাইল ফোন নম্বর লাগে। আপনার মোবাইল ফোন নম্বরটি ভেরিফাইড কি না তা আপনার ফোন থেকে *১৬০০১# নম্বরে ডায়াল করে জেনে নিতে পারেন।

ই রিটার্ন সিস্টেমে সাইন-ইন কিভাবে করবো?

ই-রিটার্ন সিস্টেমে সাইন-ইন করতে হলে টিআইএন এবং পাসওয়ার্ড লাগবে। পাসওয়ার্ড পাওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। রেজিস্ট্রেশনের সময় আপনি নিজের পাসওয়ার্ড নিজে ঠিক করে নিবেন। পরবর্তীতে এই পাসওয়ার্ড দিয়ে সাইন ইন করবেন।

টিআইএন খোলার সময় যে ফোন নম্বর দিয়েছিলাম তা এখন আর নেই। আমি রেজিস্ট্রেশন করতে পারবো?

পারবেন। আপনার নিজের নামে নিবন্ধিত (biometrically verified) যে কোনো মোবাইল ফোন দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন।

পাসওয়ার্ড সেট করার নিয়ম কি?

পাসওয়ার্ড কমপক্ষে আট character বিশিষ্ট হবে। এর মধ্যে কমপক্ষে একটি করে lower case, upper case, digit (0-9) এবং special character (@, #, %, &, ইত্যাদি) থাকতে হবে। ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ কম্পিউটার ব্যবহার করলে সিস্টেম আপনাকে গাইড করবে।

ই রিটার্নের ক্ষেত্রে কোন সাপোর্টিং কাগজপত্র সাবমিট করতে হবে?

অনলাইন রিটার্ন দাখিলে কোনো কাগজপত্র সাবমিট করতে হয় না। আপনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থেকে নির্ভুলভাবে তথ্য এন্ট্রি দিন।  অনলাইনে রিটার্ন submit করার সাথে সাথে সিস্টেমে আপনার অ্যাসেসমেন্ট হয়ে যাবে এবং আপনি প্রাপ্তি স্বীকারপত্র পেয়ে যাবেন।

অনলাইনে রিটার্ন সাবমিট করার পর আবার কি সার্কেলে গিয়ে কাগজপত্র দাখিল করতে হবে?

না, হবে না। অনলাইনে রিটার্ন submit করার সাথে সাথেই আপনার অ্যাসেসমেন্ট সম্পন্ন হয়ে যাবে।

আমার উৎস কর এবং অগ্রীম কর দেয়া আছে। আমি কি ই-রিটার্ন সিস্টেম ব্যবহার করতে পারবো?

ই-রিটার্ন সিস্টেম ব্যবহার করে আপনার পেপার রিটার্ন তৈরি করে নিতে পারবেন। আপনার দেয়া তথ্যের উপর ভিত্তি করে ই-রিটার্ন সিস্টেম নির্ভুলভাবে আপনার রিটার্ন বানিয়ে দিবে, যা প্রিন্ট করে আপনি সার্কেলে জমা দিতে পারবেন। উৎস বা অগ্রীম করের অনলাইন ভেরিফিকেশনের জন্য অন্যান্য সিস্টেমের সাথে কানেক্টিভিটি (API) লাগে। API স্থাপনের কাজ চলমান আছে, যা শেষ হলে উৎস বা অগ্রীম কর প্রদানকারী করদাতাগণ অনলাইনে রিটার্ন submit করতে পারবেন।

অনলাইনে রিটার্ন সাবমিট করার সময় কোনো ট্যাক্স দিতে হলে আমি কি অনলাইন পেমেন্ট করতে পারবো?

হ্যাঁ, পারবেন। অনলাইন রিটার্ন সাবমিট করার সময় কোনো ট্যাক্স দিতে হলে ই-রিটার্ন সিস্টেম থেকেই অনলাইন পেমেন্ট করা যাবে।

Similar Posts

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।