পাসপোর্ট সংশোধন করার নিয়ম ২০২২

জানুন পাসপোর্ট সংশোধন করার নিয়ম এবং পাসপোর্ট সংশোধন সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন নিয়ে। সংশোধন করতে কি কি লাগবে ও কিভাবে আবেদন করবেন বিস্তারিত জানুন।

পাসপোর্ট সংশোধন করার নিয়ম

সম্প্রতি ৩ নভেম্বর ২০২২ তারিখ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ পাসপোর্ট সংশোধন 2022 নোটিশ প্রকাশ করেছে। এই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেশে এবং বিদেশে নতুন পাসপোর্ট প্রদান ও সংশোধনে কোন কোন নিয়ম মানা হবে তা স্পষ্ঠ করেছে।

যারা নতুন পাসপোর্ট করবেন বা পাসপোর্ট রিনিউ করবেন তাদের জন্য এ বিষয়ে জানা খুবই প্রয়োজন। তাই আমি আপনাদের জন্য বিষয়টি পরিষ্কার করার জন্য বর্তমান ও সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্রের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করবো।

পাসপোর্ট সংশোধন সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন – ৩ নভেম্বর ২০২২

আসুন প্রথমেই জানি পাসপোর্ট সংশোধন সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রজ্ঞাপনে কি বলা হয়েছে।

১) বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এবং বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশী নাগরিকদের পাসপোর্টের জন্য আবেদনকারীদের এনআইডি ও পাসপোর্টের মধ্যে তথ্যের গরমিল হলে এনআইডিতে প্রদত্ত তথ্য (নাম, পিতা-মাতার নাম, বয়স ইত্যাদি) অনুযায়ী পাসপোর্ট প্রদান করা যাবে।

২) এতদ্ব্যাতীত পাসপোর্টের জন্য আবেদনকারীদের তথ্য সংশোধনপূর্বক পাসপোর্ট রি ইস্যুর আবেদনসমূহ নিষ্পত্তিকরণে এ বিভাগের স্মারক নং-৫৮.০০.০০০০.০৪৩.৩২.০০৭.১৭ (অংশ).৬৩, তারিখ- ২৮ এপ্রিল, ২০২১ খিঃ এ জারীকৃত পরিপত্র অনুসৃত হবে।

৩) সুরক্ষা সেবা বিভাগ হতে ০৯/১২/২০২১ তারিখে জারীকৃত পরিপত্রটি এতদ্বারা বাতিল করা হলো।

পরিপত্র (প্রকাশ-০৩ নভেম্বর, ২০২২ খ্রিঃ), সুরক্ষা সেবা বিভাগ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।
পাসপোর্ট সংশোধন সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন

সর্বশেষ এই পরিপত্রের ২ নং নির্দেশনায় বলা হয়, পাসপোর্ট সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তিতে ২০২১ সালের এপ্রিল ২৮ তারিখে প্রকাশ পরিপত্র অনুসরণ করা হবে।

পাসপোর্ট সংশোধন প্রজ্ঞাপন – ২৮ এপ্রিল ২০২১ (কার্যকর)

তাহলে এবার জানা যাক ২৮ এপ্রিল ২০২১ তারিখের সেই পরিপত্রে পাসপোর্ট সংশোধনের জন্য কি কি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

দেশে ও বিদেশে পাসপোর্টের তথ্য সংশোধনপূর্বক পাসপোর্ট রি ইস্যুর ক্ষেত্রে নির্দেশনাগুলো নিম্নরুপ

১. পাসপাের্টে নাম (নিজ, পিতা ও মাতা) ও বয়স সংশােধনের জন্য-

  • প্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র/জেএসসি/জেডিসি/এসএসসি/এইচএসসি/দাখিল/কারিগরি/উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও সমমান-এর সনদপত্র বিবেচনা করতে হবে।
  • যাদের এ ধরনের সনদপত্র নেই তাদের ক্ষেত্রে জন্মসনদ বিবেচনা করতে হবে।
  • অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে জন্মসনদ বিবেচনা করতে হবে।
  • প্রয়ােজনে স্পেশাল ব্রাঞ্চ ও অন্যান্য গােয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে প্রদত্ত তথ্য যাচাই করা যেতে পারে। আবেদনে বয়স পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫ (পাঁচ) বছরের ব্যবধান পর্যন্ত বিবেচনা করা যাবে।

২. সরকারি চাকুরিজীবীগণ চাকুরিতে প্রবেশের সময় তথ্যাদি জমা দেন বিধায় এ ধরনের তথ্য পরিবর্তনের আবেদন বিবেচনার কোন অবকাশ নেই। তবে সরকারি চাকুরিজীবী যারা চাকুরির পূর্বে পাসপাের্ট গ্রহণ করেছেন, তাদের প্রমাণক পরীক্ষা-নিরীক্ষাপূর্বক তথ্য সংশােধন করা যেতে পারে।

৩. বিদেশস্থ দূতাবাসে আবেদন করা হলে আবেদনপত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশের অবস্থান/বসবাসের প্রমাণক, ছবি, নাম এবং বয়স সম্বলিত প্রমাণক যেমন Permanent Resident Card/Job ID Card/Student ID Card/Driving License ইত্যাদি সংযােজন করতে হবে, যা দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত হতে হবে।

৪. বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশের নাগরিকগণ এই পরিপত্র জারির ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে তথ্য সংশােধনের আবেদন করতে পারবেন। তবে যৌক্তিক কারণে এ সময়সীমা ১ (এক) বছর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা যেতে পারে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য সংশােধনের আবেদনে ব্যর্থ হলে আর সুযােগ থাকবে না।

৫. MRP-তে কোন সংশােধনী না থাকলে রি-ইস্যু করার সময় পুলিশ ভেরিফিকেশন আবশ্যক নয়।

৬. পাসপোের্ট হারিয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী হারানাে পাসপাের্টের পুলিশ প্রতিবেদনসহ রি-ইস্যুর আবেদন দাখিল করতে হবে।

৭. আবেদনকারীকে তথ্য পরিবর্তনের জন্য লিখিত আবেদন করতে হবে এবং হলফনামা প্রদান করতে হবে। ভবিষ্যতে কোন আইনী জটিলতা হলে আবেদনকারী দায়ী থাকবেন এই মর্মে ঘােষণা থাকতে হবে।

৮. যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমােদনক্রমে এ পরিপত্র জারি করা হল। উপযুক্ত নির্দেশনাসমূহ যথাযথভাবে প্রতিপালনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরােধ করা হল।

পাসপোর্ট সংশোধন সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন

পাসপোর্ট সংশোধন করার নিয়ম

MRP হোক বা E passport হোক, পাসপোর্ট সংশোধন করার জন্য আপনাকে অনলাইনে ই পাসপোর্ট রিনিউ আবেদন করতে হবে। ই পাসপোর্ট আবেদনে সকল তথ্য আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র বা NID অনুসারে দিতে হবে। যেহেতু এটি সংশোধন বা রিনিউ আবেদন, ID Documents অপশন থেকে পুরাতন পাসপোর্টের তথ্য দিন এবং আবেদনটি সাবমিট করুন।

পাসপোর্ট সংশোধনের জন্য প্রথমেই আপনার এনআইডি কার্ডে সঠিক তথ্য থাকতে হবে। তারপর নিচের ধাপগুলো অনুসারণ করুন:

  1. সঠিক তথ্যের স্বপক্ষে প্রমাণ সংগ্রহ- NID কপি অবশ্যই প্রয়োজন হবে। এছাড়া শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, জন্ম নিবন্ধন, বিদেশে দূতাবাসে আবেদন করলে, Permanent Resident Card/ Job ID Card/ Student ID Card/ Driving License কপি সংগ্রহ করুন।
  2. হলফ নামা তৈরি করুন – নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে আপনার তথ্য সংশোধনের বিষয়ে একটি হলফনামা তৈরি করুন। পাসপোর্টে তথ্য সংশোধনের কারণে ভবিষ্যতে কোন আইনী জটিলতা হলে আবেদনকারী দায়ী থাকবেন এই মর্মে ঘােষণা থাকতে হবে।
  3. অনলাইনে আবেদন করুন।
  4. পাসপোর্ট সংশোধনের জন্য লিখিত আবেদন করুন
  5. এ চালানের মাধ্যমে পাসপোর্ট ফি পরিশোধ করুন
  6. সকল কাগজপত্রসহ আবেদনটি জমা দিন।

পাসপোর্ট সংশোধন করতে কি কি লাগে

পাসপোর্ট সংশোধন করতে প্রধানত প্রয়োজন হবে:

  1. জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র
  2. যাদের সনদ নেই তাদের ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন
  3. বিদেশে দূতাবাসে আবেদন করা হলে Permanent Resident Card/Job ID Card/Student ID Card/Driving License
  4. লিখিত আবেদন ও হলফনামা
  5. পুরাতন পাসপোর্টের কপি ও পাসপোর্ট

পাসপোর্ট সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রয়ােজনে স্পেশাল ব্রাঞ্চ ও অন্যান্য গােয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে প্রদত্ত তথ্য যাচাই করা হতে পারে।

পাসপোর্ট সংশোধন জন্ম তারিখ

পাসপোর্টে জন্ম তারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত বিবেচনা করা যাবে। তবে সংশোধনের স্বপক্ষে অবশ্যই জাতীয় পরিচয়পত্র/ জেএসসি/ জেডিসি/ এসএসসি/ এইচএসসি/ দাখিল /কারিগরি/ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও সমমান-এর সনদপত্র দেখাতে হবে। অপ্রাপ্ত বয়স্ক এবং যাদের সনদ নেই তাদের ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন দেয়া যাবে।

পাসপোর্টে নাম সংশোধন

পাসপোর্টে নিজ নাম ও পিতা, মাতার নাম সংশোধন করা যাবে। পাসপোর্টে নাম সংশোধন করার জন্য অবশ্যই জাতীয় পরিচয়পত্র বা শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র দেখাতে হবে। অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও যাদের সনদ নেই তাদের ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন দেয়া যাবে।

পাসপোর্ট সংশোধন করতে কত টাকা লাগে

পাসপোর্ট সংশোধন করতে নতুন পাসপোর্ট ফি (ভ্যাট সহ) ৪,০২৫ থেকে সর্বোচ্চ ১০,৩৫০ টাকা লাগে। সংশোধনের জন্য আলাদা কোন ফি নাই। শুধুমাত্র পাসপোর্ট ফি প্রদান করতে হয়।

FAQs

পাসপোর্টের জন্ম তারিখ সংশোধন করা যাবে কি?

হ্যা, পাসপোর্ট সংশোধন করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫ বছর ব্যবধান পর্যন্ত বয়স/জন্ম তারিখ সংশোধন করা যাবে। এজন্য হলফ নামা, জাতীয় পরিচয়পত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ বা অন্যান্য প্রমাণ দেখাতে হবে।

ই পাসপোর্ট কি সংশোধন করা যায়?

হ্যা, এনআইডি অনুযায়ী পাসপোর্ট সংশোধন করা যাবে।

কিভাবে পাসপোর্ট সংশোধন করব?

পাসপোর্ট সংশোধন করার জন্য অবশ্যই আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি কার্ডে সঠিক তথ্য থাকতে হবে। তারপর সঠিক তথ্য দিয়ে অনলাইনে ই পাসপোর্টের জন্য আবেদন করবেন। ফি পরিশোধ করার পর, আবেদনপত্র, তথ্য সংশোধনের হলফনামা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাসপোর্ট অফিসে জমা দিন।

পাসপোর্ট সংক্রান্ত আরও তথ্য

আবেদনপাসপোর্ট আবেদন
পাসপোর্ট ফিই পাসপোর্ট ফি কত
চেকপাসপোর্ট চেক
ক্যাটাগরিই পাসপোর্ট
হোমপেজEservicesbd

সকল আপডেট তথ্যের জন্য Facebook Page

Similar Posts

5 Comments

  1. পাসপোর্ট জন্ম তারিখ আছে 20/06/1995
    কিন্তু আমার স্মার্ট কার্ড বয়স আছে ২০/০৬/১৯৯৮. আছে। এখন চাচ্ছি স্মার্ট কার্ডের বয়স অনুযায়ী করার জন্য।

  2. আমার নতুন পাসপোর্ট এ বাবা-মার নাম ভূল করে দিছে । এক্ষেত্রে আমার পার্সপোর্ট সংশোধন এ কতদিন সময় লাগবে? এবং কি কি কাগজ পত্রলাগবে

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।