লিথুনিয়া কাজের ভিসা ২০২৪ | লিথুনিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসা

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশিদের কাছে লিথুনিয়া কাজে ভিসা অনেক বেশি জনপ্রিয়। জানুন নিথুনিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পাওয়ার নিয়ম ও কি কি লাগে বিস্তারিত।

Advertisement
লিথুনিয়া কাজের ভিসা ২০২৩

বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার শ্রমিক কাজের উদ্দেশ্যে লিথুনিয়ায় কাজের ভিসায় যাচ্ছে যা বেশ সুবিধাজনক।

আজকে আমরা লিথুনিয়া কাজের ভিসার প্রকারভেদ, লিথুনিয়া কাজের ভিসা পাওয়ার উপায়, কি কি প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস লাগবে, কাজের ভিসার দাম ও বেতন ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত জানব।

লিথুনিয়া কাজের ভিসা ২০২৪

লিথুনিয়ার বিভিন্ন ভিসার মধ্যে কাজের ভিসা বা ওয়ার্ক পারমিট ভিসা অন্যতম। দীর্ঘদিন লিথুনিয়ায় থেকে বিভিন্ন ধরনের কাজ বা চাকরি করার জন্য লিথুনিয়া কাজের ভিসা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

লিথুনিয়ায় বিভিন্ন ধরনের কাজের ভিসা রয়েছে যেমন:

  • দক্ষ কর্মীদের জন্য কাজের ভিসা বা EU Blue Card;
  • ইন্ট্রা কোম্পানি ট্রান্সফার ভিসা;
  • সাধারণ কর্মীদের জন্য ওয়ার্ক পারমিট ভিসা;
  • সিজনাল ওয়ার্ড ভিসা বা কাজের ভিসা;

লিথুনিয়াতে EU Blue Card নিয়ে কাজের ভিসা পাওয়ার জন্য অবশ্যই আপনাকে একজন উচ্চ দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কর্মী হতে হবে।

EU/ EEA কার্ড প্রাপ্ত কর্মীরা লিথুনিয়াতে অবাধে কাজ করতে পারে তবে প্রতি তিন মাস পর পর তাদের নিবন্ধন আপডেট করতে হয়।

Advertisement

EU blue card পাওয়ার যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারলে আপনি লিথুনিয়াতে কাজ করার পাশাপাশি অস্থায়ীভাবে দুই বছরের জন্য বসবাসের অনুমতি পাবেন।

কাজের ধরন এবং নিয়োগকর্তার উপর ভিত্তি করে আপনি এই কাজের ভিসাগুলোর মধ্যে যেকোন একটি ভিসা নিয়ে লিথুনিয়াতে কাজ করতে পারবেন।

লিথুনিয়াতে ওয়ার্ক পারমিট কাজ করার উদ্দেশ্যে সেখানে অবস্থান করার জন্য আপনাকে অবশ্যই জাতীয় ডি ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে এবং এই ডি ভিসা নিয়ে আপনি ১ বছর পর্যন্ত লিথুনিয়ায় অবস্থান করতে পারবেন।

এছাড়াও আপনি লিথুনিয়ায় সিজনাল ওয়ার্ক পারমিট ভিসা নিয়ে কিছু সময়ের জন্য অবস্থান করেও কাজ করতে পারবেন।

Advertisement

লিথুনিয়ার যে কোম্পানিতে বা যে স্থানে আপনি কাজ করবেন সেখানের নিয়োগকর্তা আপনার সকল ডকুমেন্টস দেখে কাজে নিয়োগ দিলে আপনি খুব সহজে যেকোনো দেশ থেকে লিথুনিয়া কাজের ভিসা নিয়ে কাজ করতে যেতে পারবেন।

আরও পড়ুন:

লিথুনিয়া কাজের ভিসার জন্য কি কি লাগে

লিথুনিয়াতে কাজের ভিসায় যাওয়ার জন্য অবশ্যই আপনাকে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসহ কাজের ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।

আবেদনকারীর বৈধ পাসপোর্ট, ওয়ার্ক পারমিট, ব্যাংক স্টেটমেন্ট ইত্যাদি আরো বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস এর দরকার হয়।

Advertisement

লিথুনিয়া কাজের ভিসায় আবেদনের জন্য যে সকল প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস লাগবে তা হলো –

  • কমপক্ষে ৬ মাস মেয়াদি বৈধ পাসপোর্ট যার অন্তত দুটি পৃষ্ঠা ফাঁকা থাকতে হবে;
  • আবেদনকারীর পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি;
  • লিথুনিয়ান নিয়োগকর্তার দেয়া আমন্ত্রণপত্র বা চিঠি;
  • আবেদনকারীর ব্যাংক স্টেটমেন্ট এর কপি;
  • লিথুনিয়ান লেবার এক্সচেঞ্জ দ্বারা জারি করা ওয়ার্ক পারমিট;
  • আবেদনকারীর আয়ের উৎসের প্রমাণপত্র;
  • মেডিকেল রিপোর্ট;
  • নির্দিষ্ট কাজের দক্ষতার বৈধ প্রমাণপত্র।

লিথুনিয়া কাজের ভিসায় আবেদনের জন্য উক্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুলো অবশ্যই ইংরেজি অথবা লিথুনিয়ান ভাষায় অনুবাদ করে অ্যাপোস্টিল স্ট্যাম্প সহ জমা দিতে হবে।

লিথুনিয়া কাজের ভিসা পাওয়ার উপায়

লিথুনিয়া কাজের ভিসা পাওয়ার উপায় খুব একটা জটিল নয়। ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করা, এম্বাসিতে যোগাযোগ করা, আবেদন ফরম পূরণ করে সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেয়া, অ্যাপোয়েন্টমেন্ট নেওয়া, ভিসা প্রসেসিং এর জন্য অপেক্ষা করা ইত্যাদি নির্ধারিত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে কাজের ভিসা পাওয়া যায়।

এখন আমরা লিথুনিয়া কাজের ভিসা পাওয়ার উপায় সম্পর্কে ধাপে ধাপে আলোচনা করব।

ধাপ ১ – লিথুনিয়া ওয়ার্ক পারমিট সংগ্রহ করুন

লিথুনিয়ায় কাজের ভিসা পাওয়ার জন্য সর্বপ্রথম আপনাকে লেবার এক্সচেঞ্জ ওয়ার্ক পারমিট সংগ্রহ করতে হবে।

আপনার নিয়োগ কর্তার কাছ থেকে কাজের অনুমতি পাওয়ার আগে অবশ্যই আপনাকে নির্দিষ্ট ডকুমেন্টস প্রদান করে ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করতে হবে।

লিথুনিয়া কাজের ভিসার ধরনের উপর নির্ভর করে অনেক সময় ওয়ার্ক পারমিট এর প্রয়োজন হয় না।

ধাপ ২ – নিকটতম লিথুনিয়ান এম্বাসিতে যোগাযোগ করুন 

লিথুনিয়া কাজের ভিসা পাওয়ার জন্য এরপর আপনাকে আপনার নিকটতম লিথুনিয়ান এম্বাসিতে যোগাযোগ করতে হবে।

লিথুনিয়ান এম্বাসিতে কাজের ভিসার জন্য যোগাযোগ করে ভিসার আবেদন করা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেয়া, ভিসার প্রসেসিং ইত্যাদি সকল পদক্ষেপ সম্পর্কে জেনে নিতে হবে।

ধাপ ৩ – আবেদন ফরম পূরণ করুন

বাংলাদেশে অবস্থিত লিথুনিয়া কনস্যুলেটে যোগাযোগ করলে আপনাকে সেখান থেকে অথবা তাদের অনলাইন ওয়েবসাইট থেকে Visa Application Form ভিসা আবেদন ফরম সংগ্রহ করতে হবে।

আবেদন ফরম সংগ্রহ করে অথবা তাদের অনলাইন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপনার সকল তথ্য সঠিক ও নির্ভুলভাবে দিয়ে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে।

আবেদন ফরম পূরণ করার সময় অবশ্যই আপনার Visa Type (ভিসার ধরণ) উল্লেখ করতে হবে।

ধাপ ৪ – প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস জমা দিন 

এরপর কাজের ভিসা আবেদনের জন্য আপনার বৈধ পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি, মেডিকেল রিপোর্ট, ব্যাংক স্টেটমেন্টের কপি, নিয়োগকর্তার আমন্ত্রণপত্র ইত্যাদি নির্ধারিত ডকুমেন্টস একত্রে আবেদন ফরমের সাথে জমা দিতে হবে।

ধাপ ৫ – অ্যাপয়েন্টমেন্ট গ্রহণ করুন 

কাজের ভিসার আবেদন ফরম পূরণ করে এবং সকল কাগজপত্র একত্র করে এম্বাসিতে জমা দেওয়ার জন্য তাদের সাথে যোগাযোগ করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট গ্রহণ করতে হবে।

একটি নির্দিষ্ট তারিখে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে আপনার ভিসার আবেদন ফরম ও সকল কাগজপত্র একত্রে এম্বাসিতে জমা দিতে হবে।

ধাপ ৬ – ভিসা প্রসেসিং এর জন্য অপেক্ষা করুন 

সকল কাগজপত্র জমা দেয়া হয়ে গেলে এবার আপনাকে ভিসা প্রসেসিং এর জন্য অপেক্ষা করতে হবে। সাধারণত লিথুনিয়া কাজের ভিসা প্রসেসিং এর জন্য ৭ থেকে ১৪ দিন সময় লেগে থাকে।

তবে আপনার কোন তথ্য বা কাগজপত্রে জটিলতা দেখা দিলে ভিসা প্রসেসিং এর সময় আরো বেশিও লাগতে পারে।

এভাবে উপরোক্ত ধাপগুলো অনুসরণ করে খুব সহজেই লিথুনিয়া কাজের ভিসা পাওয়া সম্ভব।

লিথুনিয়া কাজের ভিসার দাম কত

লিথুনিয়ায় কাজের ভিসায় যাওয়ার জন্য ভিসার ফি হিসেবে ১২০ ইউরো বা বাংলাদেশী টাকায় ১৮ হাজার টাকা জমা দিতে হয়।

এই ভিসা ফি আপনি নিজেই অনলাইনে অথবা লিথুনিয়ান এজেন্সির মাধ্যমে জমা দিতে পারবেন। 

বাংলাদেশ থেকে লিথুনিয়ায় কাজের ভিসায় যাওয়ার জন্য প্রায় ৭ লক্ষ থেকে ৮ লক্ষ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়ে থাকে।

লিথুনিয়া কাজের ভিসার দাম এবং লিথুনিয়ায় যাওয়ার খরচ বিভিন্ন এজেন্সির উপর ভিত্তি করে কম বেশি হতে পারে।

আরও পড়ুন: ইতালি ভিসা খরচ

লিথুনিয়ায় কাজের বেতন কত

লিথুনিয়ায় কাজের ধরন,দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ইত্যাদির উপর ভিত্তি করে শ্রমিকদের বেতন কম বেশি হয়ে থাকে।

কাজের প্রথম অবস্থায় অর্থাৎ নতুন শ্রমিকদের বেতন ৫০০ ইউরো থেকে ৬০০ ইউরো পর্যন্ত হয়ে থাকে যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৬০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা।

তবে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বৃদ্ধির সাথে সাথে শ্রমিকদের বেতন ও বৃদ্ধি পায়।

লিথুনিয়ায় কর্মরত একজন শ্রমিক মাসে ৮ থেকে ১০ ঘন্টা কাজ করে প্রায় ৬০০ ইউরো থেকে ৭০০ ইউরো পর্যন্ত আয় করতে পারে যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৭১ হাজার টাকা থেকে ৮৩ হাজার টাকা। 

এছাড়াও ওভারটাইম করে অর্থাৎ ১২ থেকে ১৪ ঘন্টা কাজ করে আরও বেশি আয় করা সম্ভব।

লিথুনিয়া এম্বাসি বাংলাদেশ

বাংলাদেশে লিথুনিয়ার কোন এম্বাসি নেই তবে কনস্যুলেট অফিস রয়েছে। লিথুনিয়া কনস্যুলেট অফিসের ঠিকানা হচ্ছে:

LITHUANIAN HONORARY CONSULATE IN DHAKA
822/3 Begum Rokeya Sharani Mirpur, Dhaka 1216.
Phone: +8801871001399, 88029023757.

বাংলাদেশ থেকে Lithuania Visa সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবার জন্য আপনারা ঢাকায় অবস্থিত Lithuania Consulate অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন। তাছাড়া নিকটস্থ এম্বাসীতের যোগাযোগ করার জন্য দিল্লীতে অবস্থিত লিথুনিয়া এম্বাসিতে যোগাযোগ করতে পারেন।

লিথুনিয়া এম্বাসী ভারত

E-4/3 Vasant Vihar,
New Delhi 110057, India.
Phone: +91 11 4313 2200; +91 11 4313 2202
Fax: +91 11 4313 2222
Email: [email protected], [email protected]
Website: https://in.mfa.lt/in/en/
Opening Hours: Monday-Thursday (9.00-18.00), Friday (9.00-16.45).

FAQ’s

লিথুনিয়ায় কাজের ভিসায় যাওয়ার খরচ কত? 

বাংলাদেশ থেকে লিথুনিয়ান এজেন্সির মাধ্যমে কাজের ভিসায় যাওয়ার জন্য একজন শ্রমিকের প্রায় ৭ থেকে ৮ লক্ষ টাকা খরচ হয়ে থাকে। তবে অনলাইনে নিজেই ভিসার জন্য আবেদন করলে বা এজেন্সি ভেদে লিথুনিয়ায় কাজের ভিসায় যাওয়ার খরচ কম বেশি হয়ে থাকে।

লিথুনিয়া কাজের ভিসার মেয়াদ কতদিন?

লিথুনিয়া কাজের ভিসার মেয়াদ সর্বোচ্চ ১ বছর। আবার কোনো শ্রমিকের EU blue card থাকলে ২ বছর পর্যন্ত  মেয়াদ বৃদ্ধি পায়। তবে এক্ষেত্রে তিন মাস পর পর নিবন্ধন আপডেট করতে হয়।

লিথুনিয়া কাজের ভিসা প্রসেসিং হতে কত সময় লাগে?

আপনার সকল তথ্য ও কাগজপত্র সঠিক ও নির্ভুল হলে ৭ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে কাজের ভিসার প্রসেসিং হয়ে যায়। তবে কাগজপত্রে কোন জটিলতা থাকলে সময় আরো বেশি লাগতে পারে।

লিথুনিয়া একজন শ্রমিক দৈনিক কত ঘন্টা কাজ করতে পারে?

লিথুনিয়া কাজের ভিসায় যেয়ে একজন শ্রমিক দৈনিক ৮-১০ ঘন্টা কাজ করতে পারে। তবে ওভারটাইম করলে ১২-১৪ ঘন্টা কাজ করতে পারবে।

লিথুলিয়া কাজের জন্য কোন দেশগুলোর ভিসা প্রয়োজন নেই?

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভক্ত দেশগুলোর জন্য লিথুনিয়া ভিসার প্রয়োজন নেই।

লিথুলিয়া কাজের ভিসার মেয়াদ বাড়ানো সম্ভব?

হ্যাঁ, লিথুনিয়া ওয়ার্ক পারমিট বা কাজের ভিসার মেয়াদ বাড়ানো সম্ভব।

Advertisement

Similar Posts

One Comment

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।