জন্ম নিবন্ধনে বয়স সংশোধন বন্ধ!

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন রেজিস্টার জেনারেলের কার্যালয় থেকে এক বিজ্ঞতিতে জন্ম নিবন্ধনে জন্ম তারিখ পরিবর্তন বা বয়স সংশোধন বিষয়ে নিদের্শনা দেয়া হলো।

Advertisement

জাতীয় পরিচয় পত্র, শিক্ষা সনদ ও পাসপোর্টের জন্ম তারিখ অনুসারে জন্ম নিবন্ধনে বয়স আর সংশোধন করা যাবে না। তবে নিবন্ধকের ভুল বা অন্য কোন উপযুক্ত প্রমাণ সাপেক্ষে শুধুমাত্র তারিখ ও মাস সংশোধন করার আবেদন করা যাবে। তাই বলা যায়, জন্ম নিবন্ধনে বয়স সংশোধন প্রায় বন্ধ করা হয়েছে

সম্প্রতি ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ তারিখ, জন্ধ ও মৃত্যু নিবন্ধন রেজিস্টার জেনারেল স্বাক্ষরিত একটি নির্দেশনায় এমন তথ্য জানানো হয়। যদিও এমন নিয়ম ১ জানুয়ারী ২০১৩ সাল থেকে কার্যকর ছিল, বিশেষ বিবেচনায় এতদিন প্রমাণ সাপেক্ষে তা সংশোধন করা হতো। কিন্তু এখন তা সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হয়েছে।

জন্ম নিবন্ধনে বয়স সংশোধন কি বন্ধ?

হ্যাঁ, জন্ম নিবন্ধনে পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র ও শিক্ষা সনদের তথ্য অনুসারে বয়স সংশোধন বন্ধ করা হয়েছে। তবে, নিবন্ধকের ভুল বা অন্য কোন ভুলের কারণে উপযুক্ত প্রমাণ সাপেক্ষে শুধুমাত্র তারিখ ও মাস সংশোধন করা যাবে উপজেলা প্রশাসন ও জেলা নিবন্ধকের কার্যালয় থেকে।

তবে জন্ম তারিখ ব্যতীত অন্যান্য তথ্যসমূহ সংশোধন করা যাবে। কিভাবে অনলাইনে Birth Certificate সংশোধনের আবেদন করবেন তা জানতে দেখুন জন্ম নিবন্ধন সংশোধন আবেদন

জন্ম নিবন্ধন বয়স সংশোধন নির্দেশনায় যা বলা হয়েছে, তা নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো,

Advertisement

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন ২০০৪ (সংশোধিত ২০১৩) অনুসরণে বাংলাদেশের নাগরিকদের দেশে বা বিদেশে অবস্থানরত জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন করা হয়। এ আইন এবং এ আইনের অধীন প্রণীত বিধিতে শিশুর জন্মের পরপর এবং ব্যক্তির মৃত্যুর পরপর মৃত্যুর খবর রেজিস্ট্রারকে দেয়া ও নিবন্ধন করানোর তাগিদ রয়েছে। শিশুর ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন সনদে লিখিত তারিখ তার প্রথম এবং আদি জন্ম তারিখ এবং এ তারিখের ভিত্তিতেই তার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি, পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি হয়ে থাকে। কিন্তু পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে যে, অনেক ক্ষেত্রেই পাবলিক পরীক্ষায় রেজিস্ট্রেশন, জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি, পাসপোর্ট করার সময় জন্ম নিবন্ধন সনদে উল্লিখিত রেজিস্ট্রারকৃত তারিখের পরিবর্তে অন্য একটি জন্ম তারিখ বসিয়ে পাবলিক পরীক্ষায় রেজিস্ট্রেশন, পাবলিক পরীক্ষার সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে পাবলিক পরীক্ষার সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টের আদলে জন্ম সনদ বিশেষ করে জন্ম তারিখ সংশোধন করে দেয়ার জন্য পীড়াপীড়ি করা হয়। নিবন্ধক অফিস এসব আবেদন গ্রহণ করে থাকে, আপলোড করে এবং অনুমোদনের জন্য নিম্নস্বাক্ষরকারীর নিকট প্রেরণ করে। ইহা সমীচীন নয়। কোন নিবন্ধক অফিস জন্ম সনদের মূল জন্ম তারিখ পরিবর্তন করে পাবলিক পরীক্ষা, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট তৈরি করে জন্ম তারিখ বা জন্ম সাল পরিবর্তনের আবেদন যেন গ্রহণ না করা হয়, আপলোড না করা হয় এবং অনুমোদনের জন্য যেন প্রেরণ না করা হয় তার অনুরোধ করা হলো। এ ধরনের আবেদন মোটেও অনুমোদনযোগ্য নয়। ইহা তার অধিক্ষেত্রের সকল নিবন্ধন অফিসকে বিষয়টি জানিয়ে দেয়ার জন্য তাঁকে অনুরোধ করা হলো।

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সনদে জন্ম তারিখ পরিবর্তনের নির্দেশনা (প্রকাশিত- ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩)
জন্ম নিবন্ধনে বয়স সংশোধন নির্দেশনা

উপরের নির্দেশনা থেকে বুঝাই যাচ্ছে জন্ম নিবন্ধনের বয়স বা জন্ম তারিখ পরিবর্তন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

তবে ২২ ডিসেম্বর ২০২২ তারিখে প্রকাশিত জন্ম নিবন্ধন সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে অন্য একটি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জন্ম নিবন্ধনে শুধুমাত্র দিন ও মাসের সংশোধন করা যাবে। এক্ষেত্রে অবশ্যই উপযুক্ত প্রমাণ ও যুক্তিযুক্ত কারণ থাকতে হবে।

তাছাড়া, নিবন্ধকের ভুল লিপিবদ্ধ করার কারণে জন্ম তারিখ ভুল হলে তাও দিন ও মাস সংশোধন করা যাবে।

Advertisement
জন্ম নিবন্ধনে জন্ম তারিখ সংশোধন নির্দেশনা

জন্ম সনদে জন্ম তারিখ সংশোধনের সুযোগ রাখা উচিত কিনা?

না, জন্ম নিবন্ধন সনদে জন্ম তারিখ সংশোধনের সুযোগ রাখা উচিত নয়। কারণ সাধারণত একজন শিশুর জন্মের পর প্রথম ডকুমেন্টই জন্ম নিবন্ধন সনদ। সেখানে সঠিক জন্ম তারিখ দিয়ে জন্ম নিবন্ধন করার পর, পরবর্তীতে এনআইডি বা পাসপোর্টে জন্ম তারিখ ভুল হওয়ার কোন কারণই নেই। কারণ, জন্ম নিবন্ধন ও শিক্ষা সনদ ছাড়া ভোটার নিবন্ধন এবং এনআইডি ছাড়া পাসপোর্ট তৈরি হয় না।

আবার এভাবে সব ডকুমেন্টে বয়স সংশোধনের নিয়ম রাখার কারণে একজন নাগরিকের একাধিক ডকুমেন্ট তৈরিসহ, জাল-জালিয়াতির সুযোগ তৈরি হয়। তাই, আমাদের এসব ডকুমেন্ট তৈরিতে জন্ম নিবন্ধন অনুসারে সঠিক জন্ম তারিখ দেয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

তবে যারা আগে পাসপোর্ট বা জাতীয় পরিচয় পত্র করেছেন এবং পরে ভুল জন্ম তারিখ দিয়ে জন্ম নিবন্ধন করেছেন তাদের জন্য এখন একটি অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়াল। যদিও তাদের কথা চিন্তা করেই এতদিন বিশেষ বিবেচনায় জন্ম তারিখ সংশোধনের সুযোগ দেয়া হয়েছিল।

জন্ম নিবন্ধন সংক্রান্ত যে কোন তথ্যের জন্য দেখুন – জন্ম নিবন্ধন

Advertisement

এই বিষয়ে আপনি কি মনে করেন? এটি কি উচিত হয়েছে না হয়নি? হা অথবা না লিখে কমেন্টে অবশ্যই জানানোর জন্য অনুরোধ রইল।

বাংলাদেশের সরকারি ই সেবা, নাগরিক সেবা, পাসপোর্ট-ভিসা, ডিজিটাল ব্যাংকিং, ভ্যাট ও আয়কর সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্যের জন্য ভিজিট করুন- eservicesbd.com এবং আমাদের ফেসবুক পেইজ ফলো করুন- Eservicesbd ।

ক্যাটাগরিজন্ম নিবন্ধন
হোমপেইজে যানEservicesbd
Advertisement

Similar Posts

9 Comments

  1. আমার ছেলের জন্ম নিবন্ধনে জন্ম তারিখে সাল ভুল আসে। সংশোধনের জন্য আবেদন করলে তাতে তারিখ ভুল আসে। এখন যদি জন্ম তারিখ সংশোধনের সুযোগ না থাকে তাহলে এ ভুলের দায় কে নেবে?

  2. আমার বড় ভাইয়ের জন্ম নিবন্ধন এ জন্ম তারিখ দেওয়া আছে,,,২০-০৫-১৯৮৩ কিন্তু পাসপোর্ট এ দেওয়া আছে ২২-০৫-১৯৮৩,,, এখন আমি কি এইটা ঠিক করতে পারবো শুধুমাত্র ২০ তারিখের স্থানে ২২ তারিখ বসাতে চাই।
    কেউ জানলে একটু তারাতারি জানাইয়েন না হয় অনেক বড় বিপদের সম্মুখীন হতে হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।