বিকাশ একাউন্টের মালিকানা পরিবর্তন করার নিয়ম

বিকাশ একাউন্টের মালিকানা কি পরিবর্তন করা যায়, কিভাবে আপনার বিকাশ একাউন্টের নাম্বার পরিবর্তন করবেন, এক এনআইডি থেকে অন্য এনআইডিতে মালিকানা পরিবর্তন করবেন।

বিকাশ একাউন্টের মালিকানা পরিবর্তন

এক ব্যক্তির নিবন্ধিত সিম কার্ডে অন্য ব্যক্তির নামে বিকাশ একাউন্ট খোলা হলে তার মালিকানা পরিবর্তন করার প্রয়োজন হয়। জেনে নিন বিকাশ একাউন্টের মালিকানা পরিবর্তন করার নিয়ম ও বিস্তারিত।

অনেকসময় দেখা যায়, বিকাশ একাউন্ট একজনের জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে কিন্তু সিম কার্ডের রেজিস্ট্রেশন অন্যজনের এনআইডি দিয়ে। এধরণের সমস্যার ক্ষেত্রে প্রায় বিকাশের নাম্বার পরিবর্তন বা নাম পরিবর্তন করার প্রয়োজন হয়। আসুন এর কারণ ও সমাধান নিয়ে আলোচনা করি।

বিকাশ একাউন্ট ও সিমের মালিকানা ভিন্ন হওয়ার কারণ

বিকাশ ২০১১ সালে বাংলাদেশ সর্বপ্রথম মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু করে। তাই বেশিরভাগ মানুষই বিকাশের গ্রাহক। প্রথম দিকে বিকাশ একাউন্ট খোলার জন্য এতটা ধরাবাঁধা নিয়ম ছিল না। বিকাশের একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াও ছিল শুধুমাত্র বিকাশ এজেন্টের মাধ্যমে।

কিন্তু মোবাইল নাম্বার বা সিম কার্ডের রেজিস্ট্রেশন চালু হয়েছিল ২০১৫ সালে। সেই কারনে ২০১১ সালে আপনার নামে বিকাশ একাউন্ট খোলা হলেও পরে দেখা যাচ্ছে ২০১৫ সালে সিম কার্ডটি হয়তো আপনার পরিবারের অন্য কোন সদস্যের নামে নিবন্ধন করেছেন।

একইভাবে, অন্যের নামে বিকাশ একাউন্ট খোলা সিম কার্ডটি হয়তো আপনার নামে নিবন্ধন করেছেন।

বিকাশ একাউন্টের মালিকানা পরিবর্তন

কিন্তু বর্তমানে বিকাশ একাউন্ট খোলার জন্য সিম কার্ডের রেজিস্ট্রেশন একই ব্যক্তির নামে হওয়া বাধ্যতামূলক। যদি সিম কার্ডটি আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা থাকে, তবেই সেই নাম্বারে আপনার নামে বিকাশ একাউন্ট খুলতে পারবেন।

এখন স্বয়ংক্রীয়ভাবে নিজে নিজেই সেল্ফ রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে বিকাশ একাউন্ট খুলতে পারবেন। তারজন্য, সিম কার্ড আপনার এনআইডি দিয়ে নিবন্ধিত হতে হবে।

যাইহোক, পূর্বের বিকাশ একাউন্টগুলোর মালিকানা যেহেতু সিমের মালিকানার সাথে মিল নেই। এগুলোর তথ্য হালনাগাদ ও মালিকানা পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে। তা না হলে বিকাশের অনেকগুলো ফিচার আপনি ব্যবহার করতে পারবেন না।

বিকাশ একাউন্টের মালিকানা পরিবর্তন করার নিয়ম

বিকাশ একাউন্টের মালিকানা পরিবর্তন করার জন্য প্রথমেই আপনার বিকাশ একাউন্টের ব্যালেন্স 0.00 করে নিতে হবে। এরপর আপনাকে বিকাশ কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে যেতে হবে। বিকাশ একাউন্টের মালিক ও মোবাইল সিমের মালিক উভয়কেই তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি ও সিমকার্ড সহ উপস্থিত হতে হবে।

সাধারণত দুই ভাবে বিকাশ একাউন্টের মালিকানা পরিবর্তন করা যেতে পারে। আপনার বিকাশ একাউন্টের অবস্থা অনুযায়ী এটি ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে।

  • বিকাশ একাউন্টের নাম্বার পরিবর্তন
  • বিকাশ একাউন্ট এক এনআইডি (NID) থেকে এনআইডিতে (NID) মালিকানা পরিবর্তন

বিকাশ একাউন্টের নাম্বার পরিবর্তন

মোবাইল নাম্বারের রেজিস্ট্রেশন ও বিকাশ একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন একই ব্যক্তির না হলে এইভাবে বিকাশ একাউন্টের মালিকানা পরিবর্তন করতে পারেন। এক্ষেত্রে যেই ব্যক্তির নামে বিকাশ একাউন্ট সেই ব্যক্তির নিজ এনআইডি দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা সিম কার্ডে বিকাশ একাউন্ট পরিবর্তন করবেন।

তাছাড়া হতে পারে আপনার রবি সিমে বিকাশ একাউন্ট খোলা আছে আপনি চান আপনার গ্রামীণ সিমে একাউন্টটি ট্রান্সফার করবেন। এমতাবস্থায় শুধু আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে বিকাশ কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে যেতে হবে।

বিকাশ একাউন্টের নাম্বার পরিবর্তন করার জন্য নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন,

  • নিকটস্থ বিকাশ কাস্টমার কেয়ার সেন্টার খুজে নিন।
  • বিকাশ একাউন্টের ব্যালেন্স 0.00 করে নিন।
  • বিকাশ একাউন্টের মালিক ও সিম কার্ডের মালিক উভয় তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি সহ কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে যান।
  • কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধি আপনাদের তথ্য যাচাই করার পর পূর্বের সিম কার্ডের বিকাশ একাউন্টটি ডিলিট করে দিবেন
  • তারপর আপনার নিজ নামে নিবন্ধিত নতুন সিম কার্ডে আপনার নামে বিকাশ একাউন্ট খুলে দিবেন। অথবা আপনি নিজে খুলে নিতে পারবেন।

এভাবেই পুরাতন সিমের একাউন্ট ডিলিট করে নতুন সিমে একাউন্ট খুললেই বিকাশ একাউন্টের নাম্বার পরিবর্তন হয়ে গেল।

এক এনআইডি অন্য এনআইডিতে বিকাশের মালিকানা পরিবর্তন

আপনার নামে রেজিস্ট্রেশন করা সিম কার্ড কিন্তু যেখানে আপনার বড়ভাইয়ের নামে বিকাশ একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে। এমতাবস্থায় আপনি চান, আপনার ভাইয়ের নাম পরিবর্তন করে সেটি আপনার নামে করতে। কিভাবে করবেন, শুধু নাম বা জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর পরিবর্তন করে এটি সম্ভব নয়। আসুন জানি কিভাবে এক এনআইডি থেকে অন্য এনআইডিতে বিকাশ একাউন্টের মালিকানা পরিবর্তন করবেন।

একজনের এনআইডি থেকে অন্যজনের এনআইডিতে বিকাশ একাউন্ট পরিবর্তনের জন্য, প্রথমেই বিকাশ একাউন্টের ব্যালেন্স 0.00 করে নিন এবং নিচের ধাপ অনুসরণ করুন।

  • নিকটস্থ বিকাশ কাস্টমার কেয়ার সেন্টার খুজে নিন।
  • বিকাশ একাউন্টের বর্তমান মালিক (যার নামে বিকাশ একাউন্ট) ও সিম কার্ডের মালিক (যার নামে সিম রেজিস্ট্রেশন) উভয় তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি সহ কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে যান।
  • কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধি আপনাদের তথ্য যাচাই করার পর আপনার ভাইয়ের নামের পূর্বের বিকাশ একাউন্টটি বন্ধ করে দিবেন। তারপর সেই একই সিমকার্ডে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে নতুন বিকাশ একাউন্ট খুলে দিবেন। অথবা আপনি নিজে খুলে নিতে পারবেন।

এভাবেই আপনার ভাইয়ের নামের বিকাশ একাউন্টটি বন্ধ করে, আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে নতুন বিকাশ একাউন্ট খুলে বিকাশের মালিকানা পরিবর্তন করতে পারবেন। বিকাশ সম্পর্কে আরো টিপস ট্রিকস জানতে পড়ুন- বিকাশ

বিকাশের মালিকানা পরিবর্তন সংক্রান্ত FAQ

একটা আইডি দিয়ে কয়টি বিকাশ খোলা যায়?

একটি এনআইডি কার্ড দিয়ে শুধুমাত্র ১টি বিকাশ একাউন্ট খোলা যায়।

মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিকাশ একাউন্টের মালিকানা পরিবর্তন করা যায়?

না, এক্ষেত্রে অবশ্যই বিকাশ একাউন্টের বর্তমান মালিক ও নতুন বিকাশ একাউন্টের মালিক উভয়কেই তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নিয়ে বিকাশ কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে যেতে হবে।

বিকাশের মালিকানা পরিবর্তন করার পর পুনরায় কি আবার পূর্বের মালিকানায় যাওয়া যায়?

না, একবার কোন সিম থেকে বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার পর সেই সিমকার্ডে পূর্বের জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে বিকাশ একাউন্ট করা যাবে না। তবে অন্য কারো জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে একাউন্ট করা যাবে।

বিকাশ একাউন্ট কার নামে আছে?

বিকাশ একাউন্ট কার নামে আছে তা জানার জন্য, আপনার মোবাইলে বিকাশ অ্যাপ ইনস্টল করে লগইন করুন। বিকাশ অ্যাপে লগইন করার পর, বিকাশ একাউন্টের নাম দেখতে পাবেন।

বিকাশ সম্পর্কিত আরো তথ্য

সকল আপডেট তথ্যের জন্য Facebook Page

Similar Posts

3 Comments

মন্তব্য করুন