মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন করার নিয়ম ২০২২

জানুন মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন করতে কি কি লাগে, মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন ফি কত ২০২২ এবং রেজিস্ট্রেশনের নিয়ম ও ধাপসমূহ।

মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন করার নিয়ম

কিভাবে আপনার সখের মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন করবেন, কি কি কাগজপত্র লাগবে, মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন ফি কত ও মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন করার নিয়ম আপনার সুবিধার জন্য আলোচনা করা হলো।

এই ব্লগটি পড়ে আপনি নিজেই আপনার শোরুম থেকে কেনা মোটরসাইকেলটি বিআরটিএ থেকে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। এজন্য আপনাকে কোন দালাল ধরতে হবে না।

কেন মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন করতে হবে

বাংলাদেশ সড়ক আইন ২০১৮ অনুযায়ী প্রত্যেক মোটরযান রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। রেজিস্ট্রেশন বা নিবন্ধন ছাড়া রাস্তার কোন মোটরযান চালানো আইনগত অপরাধ।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ আইন ২০১৮ এর চতুর্থ অধ্যায়ে মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত বিধান রয়েছে।

এ আইনের ১৬ ধারায় বলা হয়েছে কোনো ব্যক্তি বা মোটরযান মালিক রেজিস্ট্রেশন সনদ ব্যতীত সড়ক, মহাসড়ক বা পাবলিক প্লেসে মোটরযান চালাইতে বা চালাইবার অনুমতি প্রদান করিতে পারিবেন না।

দ্বিতীয়ত, কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা মোটরযান মালিক কর্তৃপক্ষের নিকট নির্ধারিত ফরম ও পদ্ধতিতে, নির্ধারিত ফিস এবং ধারা ৫৩ এর অধীন গঠিত আর্থিক সহায়তা তহবিলের জন্য নির্ধারিত চাঁদা প্রদান সাপেক্ষে, মোটরযানের রেজিস্ট্রেশনের জন্য লিখিতভাবে আবেদন করিবেন।

তৃতীয়ত, কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা মোটরযান মালিক রেজিস্ট্রেশন নম্বরপ্লেট সংযোজন ও প্রদর্শন ব্যতীত মোটরযান চালাইতে বা চালাইবার অনুমতি প্রদান করিতে পারিবেন না।

রেজিস্ট্রেশন ছাড়া মোটরযান চালানের ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান ও রয়েছে। শাস্তির বিধান হিসেবে, এ আইনের ৭২ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি ধারা ১৬ এর বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৬ (ছয়) মাসের কারাদণ্ড, বা অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

সুতরাং, বুঝতেই পারছেন কেন আপনার মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন করা বাধ্যতামূলক। অনেকে ভাবতে পারেন আমি এলাকায় চালাব, বাইরে কোথাও যাবনা তাই আমার রেজিস্ট্রেশন করার প্রয়োজন নেই। এটি সম্পূর্ণ ভুল তাই সময়মত আপনার মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন করা উচিত।

মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন মেয়াদ

মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ হচ্ছে ২ বছর এবং ১০ বছর। ২ বছর মেয়াদী রেজিস্ট্রেশনে রোড ট্যাক্স আংশিক বা ২ বছর মেয়াদী কিস্তি পরিশোধ করা হয়। ২ বছর পর আবার রোড ট্যাক্স কিস্তি পরিশোধ করে রেজিস্ট্রেশন হাল নাগাদ পরিশোধ করতে হবে। অপরদিকে, রোড ট্যাক্স কিস্তি সম্পূর্ণ পরিশোধ করলে রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ ১০ বছর হবে। ১০ বছর পর আর কোন রোড ট্যাক্স বা রেজিস্ট্রেশন নবায়ন করতে হবে না।

মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন করতে কি কি লাগে

মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন করতে যেসব ডকুমেন্ট লাগে তা হলো;

  1. ডিলার/শো-রুম থেকে দেয়া Money Receipt ও Delivery Challan
  2. মালিক ও আমদানিকারক/ডিলার কর্তৃক যথাযথভাবে পূরণ ও স্বাক্ষর করা নির্ধারিত আবেদনপত্র
  3. আমদানি সংক্রান্ত কাগজপত্র
  4. ডিলার/শো-রুম কর্তৃক পরিশোধিত মোটরসাইকেলের ভ্যাট চালানের কপি, কর চালানপত্র
  5. যে আমদানি কারক আমদানি করেছেন তার ভ্যাট পরিশোধের সোনালী ব্যাংকের ট্রেজারি চালান
  6. বিক্রয়ের ইনভয়েস, প্যাকিং লিস্ট, গেইট পাস
  7. কাস্টমস শুল্ক রসিদ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
  8. রেজিস্ট্রেশন ফি জমাদানের পেমেন্ট রসিদ
  9. ব্যক্তি মালিকানাধীন আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয় পত্র /পাসপোর্ট /টেলিফোন বিল /বিদ্যুৎ বিল ইত্যাদির যে-কোনটির সত্যায়িত ফটোকপি
  10. ড্রাইভিং লাইসেন্স (লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স চলবে)
  11. মালিক প্রতিষ্ঠান হলে প্রতিষ্ঠানের প্যাডে চিঠি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
  12. একাধিক ব্যক্তি যৌথভাবে কোনো গাড়ির মালিক হলে সে-ক্ষেত্রে একজনের নামে রেজিস্ট্রেশনের জন্য সকলের সম্মতি সম্বলিত হলফনামা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
  13. ব্যাংক অথবা অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠানের সাথে গাড়ির মালিকানার আর্থিক সংশ্লিষ্টতা থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্যাডে রেজিস্ট্রেশন কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
  14. নিলামে ক্রয়কৃত প্রতিরক্ষা বিভাগের গাড়ির ক্ষেত্রে লগবুকে বর্ণিত প্রস্তুতকাল ও প্রস্তুতকারকের বিস্তারিত বিবরণ সম্বলিত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদত্ত ছাড়পত্র (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
  15. নিলামে ক্রয়কৃত সরকারি/আধাসরকারি/স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের গাড়ির ক্ষেত্রে নিলাম সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং মেরামতের বিস্তারিত বিবরণ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)

মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন ফি কত ২০২২

বর্তমানে ১০০ সিসির উপরে মোটরসাইকেলের মূল রেজিস্ট্রেশন ফি ৩০০০ টাকা। এর সাথে ডিজিটাল নাম্বার প্লেট ২২০০ টাকা, ট্যাক্স টোকেন ২০০০ টাকা, রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট ৫৪০ টাকা, সাপ্লিমেন্টারি ডিউটি ৯২৯ টাকা ও ভ্যাট ১০৩৩ টাকা ভ্যাট সহ ২ বছর মেয়াদের জন্য মোট ১০,১৫২ টাকা দিতে হয়। আর ১০০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেলের জন্য মূল নিবন্ধন ফি ২০০০ টাকা এবং মোট ফি ৮,৮২৯ টাকা।

মেয়াদ১০০ সিসি১০০ সিসির বেশি
২ বছর (প্রথম কিস্তি)৮,৮২৯ টাকা১০,১৫২ টাকা
১০ বছর (সম্পূর্ণ)১৮,০২৯ টাকা১৯,৩৫২ টাকা
মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন ফি কত

মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন করার নিয়ম

মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনের জন্য প্রথমে শো-রুম বা ডিলার থেকে সরবরাহ করা সকল ডকুমেন্টের ফাইলটি সংগ্রহ করুন। মোটরসাইকেলের চেসিস নাম্বার ও মডেলের সাথে সকল কাগজপত্র মিলিয়ে নিন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করুন। এবার অনলাইনে bsp.brta.gov.bd থেকে রেজিস্ট্রেশন ফি পরিশোধ করুন। সবশেষে, অনলাইনে মোটরসাইকেল নিবন্ধনের আবেদন করে আবেদনের প্রিন্ট কপি ও সকল কাজপত্র নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিআরটিএ অফিসে যোগাযোগ করুন।

মোটর সাইকেল রেজিস্ট্রেশন করতে আপনাকে যে ধাপগুলো সম্পন্ন করতে হবে তা নিচে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো

ধাপ ১- প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করুন

মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনের প্রথম ধাপ হচ্ছে প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র সংগ্রহ ও যাচাই করা। যখন আপনি কোন শোরুম কিংবা ডিলার থেকে নতুন মোটরসাইকেল কিনবেন, আপনাকে ১ম দিন একটি মানি রিসিট এবং একটি ডেলিভারি চালান দেয়া হবে।

আপনাকে মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্রের ফাইল কখন দেয়া হবে জানিয়ে দিবে। অথবা আপনি সেটা জিজ্ঞেস করে নিবেন। সাধারনত ১৫-৩০ দিনের মধ্যে আপনাকে ফাইল রেডি করে দিবে।

সেই ফাইলে মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন ফরম, সেলস ইনভয়েস, কর চালান, আমদানি কারক ও ডিলারের ভ্যাট পরিশোধের চালান, গেইট পাস, প্যাকিং লিস্ট, কাস্টমসের শুল্ক রসিদ সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকবে। সকল কাগজপত্রের সাথে আপনার মোটরসাইকেলের চেসিস নম্বর, মডেল ও কালার মিলিয়ে নিবেন।

এছাড়া, আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র, পাসপোর্ট ও স্ট্যাম্প সাইজের ছবির প্রয়োজন হবে।

ধাপ ২- অনলাইনে মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন ফি পরিশোধ

মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন ফি পরিশোধের জন্য ভিজিট করুন- bsp.brta.gov.bd ওয়েবসাইটে। এখানে আপনার NID নম্বর ও জন্ম তারিখ দিয়ে নিবন্ধন করুন। তারপর লগইন করে বিভিন্ন সেবার ফি > মোটরযান নিবন্ধন ফি > অপশনে যান। ৫০ সিসি পর্যন্ত Small, ৫১-১২৫ সিসি পর্যন্ত Medium এবং ১২৫ সিসির বেশি হলে Large সিলেক্ট করুন এবং সকল প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে ফি পরিশোধ করুন।

সকল কাগজপত্র সংগ্রহ করার পর ২য় ধাপে আপনার কাজ হচ্ছে, মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন ফি পরিশোধ করা। উপরের দেখানো পদ্ধতিতে অনলাইন থেকেই ফি পরিশোধ ও পেমেন্ট রসিদ প্রিন্ট করে নিতে পারবেন।

মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন ফি পরিশোধ
মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন ফি পরিশোধ

মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন ফি পরিশোধের ধাপসমূহ

  1. bsp.brta.gov.bd ওয়েবসাইট ভিজিট করুন এবং নিবন্ধন অপশনে যান। এনআইডি নম্বর ও জন্ম তারিখ দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন।
  2. একটি পাসওয়ার্ড সেট করুন এবং মোবাইলে আসা OTP দিয়ে একাউন্ট ভেরিফাই করুন।
  3. এবার লগইন করুন ও বিভিন্ন সেবার ফি > মোটরযান নিবন্ধন সংক্রান্ত ফি অপশনে যান।
  4. মোটরযানের ধরন ও শ্রেণি সিলেক্ট করুন। ৫০ সিসি পর্যন্ত Small, ৫১-১২৫ সিসি পর্যন্ত Medium এবং ১২৫ সিসির বেশি হলে Large সিলেক্ট করুন।
  5. এরপর ইঞ্জিন নাম্বারের ঘরে নির্ভুলভাবে ইঞ্জিন নাম্বার লিখুন। চ্যাসিস নাম্বারের ঘরে চ্যাসিস নাম্বার লিখুন। সিসির ঘরে মোটরসাইকেলের সিসি লিখুন, আসন সংখ্যা দুইটি, বোঝাই গাড়ির ওজন ও খালি গাড়ির ওজন শোরুম থেকে দেওয়া কাগজ দেখে ২ বার যাচাই করে লিখুন।
  6. হায়ার পারচেস, ভাড়ায় চালিত ও নতুন মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন জন্য মালিকানা পরিবর্তনের ঘরে নো সিলেক্ট করুন।
  7. রোড ট্যাক্স কিস্তির ঘরে First Installment Only সিলেক্ট করবেন। ফার্স্ট ইনস্টলমেন্ট হলো দুই বছরের জন্য, আর ফুল পেমেন্ট মানে দশ বছরের জন্য ট্যাক্সসহ রেজিষ্ট্রেশন। উৎপাদন বছরের ঘরে আপনার গাড়ি উৎপাদনের বছর লিখুন, এটি শোরুম থেকে দেওয়া কাগজ দেখে লিখুন।
  8. এরপরের অংশে যার নামে মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন করা হবে তার নাম, পিতার নাম, ঠিকানা, মালিকানার ধরণ দিন। সবকিছু আবার চেক করে এগিয়ে যান বাটনে ক্লিক করুন।
  9. সকল তথ্য ঠিক আছে কিনা যাচাই করে নিন। কোন ভুল থাকলে তা সংশোধন করে নিন। কি কি ফি বাবদ কত টাকা দিতে হবে তার পরিমাণ, ভ্যাট ও মোট টাকার পরিমাণ দেখানো হবে।
  10. সবকিছু ঠিক থাকলে ফি জমা দিন বাটনে ক্লিক করুন। এখানে মোবাইল নাম্বারের ঘরের পাশে টিকবক্স ক্লিক করে নাম্বারটি কনফার্ম করুন। আবারো অবশ্যই মোটরসাইকেলের চ্যাসিস নাম্বারটি চেক করে নিন। কারণ ফি জমা হবে টাকাগুলো জমা হবে চ্যাসিস নাম্বারের পরিচিতিতে।
  11. পেমেন্ট করার জন্য হিসেবে বিকাশ/রকেট/কার্ড সিলেক্ট করতে পারবেন। Agree Terms and Conditions ক্লিক করে নিশ্চিত বাটনে ক্লিক করেন।
  12. সফলভাবে পেমেন্ট সম্পন্ন হলে, Your Payment is Successful দেখতে পাবেন। Please Click here to get money receipt লিংকে ক্লিক করে পেমেন্ট রসিদটি ডাউনলোড করে নিন। পেমেন্ট রিসিটটি ৫ পৃষ্ঠার হবে। পেমেন্ট রিসিটটির প্রিন্ট করে নিন।

রেজিস্ট্রেশন ফি পরিশোধের পর, অনলাইনে মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনের আবেদন সাবমিট করতে হবে। পরের ধাপে দেখুন।

ধাপ ৩- অনলাইনে মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন

অনলাইনে মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনের জন্য https://bsp.brta.gov.bd ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করে লগইন করুন। এবার মোটরযান নিবন্ধন মেন্যু থেকে মোটরযান নিবন্ধনের আবেদন অপশনে যান। সকল প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আবেদনটি সাবমিট করুন। সবশেষে আবেদনের প্রিন্ট কপি ও সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বিআরটিএ (BRTA) অফিসে জমা দিন।

অনলাইনে মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন আবেদন
অনলাইনে মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন আবেদন

সতর্কতাঃ সবচেয়ে ভাল হয় এ কাজটি শো-রুমের মাধ্যমে করিয়ে নেয়া। মোটরসাইকেল নিবন্ধনের আবেদনে সকল জরুরী তথ্য ইংরেজিতে ও খুবই সতর্কতার সাথে সঠিকভাবে পূরণ করতে হয়। যেহেতু আপনি এসব ব্যাপারে অনভিজ্ঞ, অবশ্যই শো-রুম কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এ আবেদনটি করিয়ে নিবেন।

অনলাইনে মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন আবেদন করার জন্য আপনি যে শো-রুম থেকে ক্রয় করেছেন তাদের বলুন আপনার ফাইলটি BSP করে দিতে। তারা আপনার মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করে দিবে এবং আপনার ফাইলে আবেদনের একটি নাম্বার লিখে দিবে তারা। এখন আপনার মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনের জন্য প্রস্তুত।

ধাপ ৪- বিআরটিএ তে ফাইল জমা দিন

এবার আপনার মোটরসাইকেল ও সকল কাগজপত্র নিয়ে বিআরটিএ অফিসে যাবেন। মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনের ফাইলটি, আবেদনের কপি, রেজিস্ট্রেশন ফি প্রদানের রসিদ, আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, এবং আপনার ৩ কপি স্ট্যাম্প সাইজের ছবি সহ বিআরটিএ অফিসে জমা দিতে হবে।

বিআরটিএ অফিসে প্রথমে মোটরযান পরিদর্শককে ফাইলটি জমা দিলে তিনি সরজমিনে এসে মোটরসাইকেলের চ্যাসিস নাম্বার আপনার আবেদন ও কাগজপত্রের সাথে মিলিয়ে যাচাই করবেন। সব ঠিক থাকলে তিনি ফাইলে স্বাক্ষর করবেন।

তারপর ফাইলটি বিআরটিএ অফিসে জমা দিয়ে দিন। জমা নেওয়ার পর আপনাকে একটি রিসিভ কপি প্রদান করবে। সেখানে রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট প্রদানের তারিখ দিয়ে দেওয়া হবে। ৭-১০ দিনের মধ্যেই একনোলেজমেন্ট স্লিপ আর ট্যাক্স টোকেন দিয়ে দেওয়া হয়। এরমধ্য দিয়ে আপনার মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন শেষ হলো।

ধাপ ৫- ছবি ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রদান

রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হলেও, তাৎক্ষণিক আপনাকে স্মার্ট কার্ড ও ডিজিটাল নাম্বার প্লেট দেয়া হবে না।

আপনার মোবাইলে SMS এর মাধ্যমে জানানো হবে কখন আপনার স্মার্ট কার্ডের জন্য ছবি তোলা ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেয়া হবে। সেই নির্ধারিত তারিখ, আপনার এন.আই.ডি কার্ড, গাড়ি রেজিষ্ট্রেশনের কাগজপত্র নিয়ে চলে যাবেন। একজন কম্পিউটার অপারেটর আপনার ছবি তুলবে এবং ফিঙ্গার প্রিন্ট নিবে।

সবকিছু ঠিক থাকলে মাসখানেক পর আবার মোবাইলে SMS পাবেন কখন ডিজিটাল নম্বর প্লেট ও স্মার্ট কার্ড দেয়া হবে। SMS এ পাওয়া তারিখে গিয়ে আপনার নম্বর প্লেট ও কার্ড সংগ্রহ করে নিন।

এভাবেই সম্পন্ন করবেন মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনের কাজ।

FAQ

মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন ফি কত?

১০০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেলের ২ বছর মেয়াদে রেজিস্ট্রেশন ফি ২,০০০ টাকা। অন্যান্য খরচ ও ভ্যাট সহ মোট ফি ৮,৮২৯ টাকা। ১০০ সিসির বেশি হলে রেজিস্ট্রেশন ফি ৩,০০০ টাকা। অন্যান্য খরচ ও ভ্যাটসহ মোট ফি’র পরিমাণ ১০,১৫২ টাকা। ১০ বছরের জন্য সম্পূর্ণ রেজিস্ট্রেশন ফি ১০০ সিসি জন্য ১৮,০২৯ টাকা এবং ১০০ সিসির বেশি হলে ১৯,৩৫২ টাকা।

মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন করতে কি কি লাগে?

মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনের জন্য শো-রুম থেকে দেয়া ডকুমেন্টের ফাইল, রেজিস্ট্রেশন আবেদন পত্র, আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয় পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন ফি প্রদানের রসিদ, স্ট্যাম্প সাইজের ৩ কপি ছবি লাগবে।

মোটরসাইকেল ২ বছরের রেজিস্ট্রেশন ফি কত ২০২২?

মোটরসাইকেল ১০০ সিসি থেকে ১৬৫ সিসি এবং ওজন ৯০ কেজির বেশি হলে ২ বছরের রেজিস্ট্রেশন ফি ১০,১৫২ টাকা পরিশোধ করতে হবে।

ব্লু বুক মানে কি?

ব্লু বুক মানে গাড়ির মালিকানা-সংক্রান্ত কাগজ (রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট)।

শেষ কথা

আশা করি উপরের সকল তথ্য পড়ে আপনি বুঝতে পেরেছেন মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া। এতে আপনি নিজেই আপনার কাজগুলো করতে পারবেন। আপনার অভিজ্ঞতা বাড়বে।

এরপরও কোন সমস্যা বা প্রশ্ন থাকলে এ ব্যাপারে শো-রুম আপনাকে সকল ধরণের সহযোগিতা করবে। তাই এক্ষেত্রে শো-রুম কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করুন।

এ ধরণের বিভিন্ন সরকারি নাগরিক সেবা, অনলাইন সেবা, আয়কর-ভ্যাট নিয়ে বিভিন্ন আপডেট তথ্য পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজ ফলো করুন- Eservicesbd

মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত আরও তথ্য

সকল আপডেট তথ্যের জন্য Facebook Page

Similar Posts

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।